অর্জুন ছালের বিস্ময়কর কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা
অর্জুন ছালের বিস্ময়কর কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা? এই সম্পর্কে সবাই অবগত না। আজকে আমি আপনাদের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানাবো এর আশ্চর্য উপকারিতা।
পোস্ট সূচিপত্রঃ অর্জুন ছালের বিস্ময়কর কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা
- অর্জুন ছালের বিস্ময়কর কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা
- অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম
- অর্জুন ফলের বিস্ময়কর উপকারিতা
- অর্জুন এর পুষ্টিগুণ
- হাঁপানি রোগে অর্জুন ফল
- দাঁতের সমস্যা সমাধানে অর্জুন
- অর্জুন ছালের অপকারিতা
- ত্বকের যত্নে অর্জুন ছাল
- শেষ কথাঃ অর্জুন ছালের বিস্ময়কর কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা
অর্জুন ছালের বিস্ময়কর কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা
অর্জুন ছালের বিস্ময়কর কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা, জানলে আপনার অনেক কাজে লাগবে। যা আপনার শরীরের নানা রোগের ঔষধ হিসাবে কাজ করে থাকে। অর্জুন এর উপকারিতা বলতে লাগলে অর্জুনের গাছ, পাতা, ছাল, ফল সব কিছু নিয়ে আলোচনা করতে হবে। আর পুরো অর্জুন গাছ হচ্ছে হাজারো গুন সম্পন্ন। আমরা সাধারনত অর্জুন গাছের ছাল এর ব্যাবহার সম্পর্কে জানি। কিন্তু এর অন্যান অংশের উপকার সম্পর্কে জানি না।
অর্জুন গাছের অন্য সকল অংশ দিয়েও অনেক উপকারি উপাদান তৈরি করা যায়। এই গাছটি সাধারনত পেয়ারা গাছের মত দেখতে হয়। কিন্তু পেয়ারা গাছের থেকে অনেক উঁচু ও লম্বা হয়ে থাকে। অর্জুন গাছের বৈজ্ঞানিক নাম আছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম হল টার্মইমিনেলিয়া অর্জুন। এই গাছটি চিরহরিৎ বৃক্ষ। নানা ঔষধি গাছের মধ্যে এই গাছটি অন্যতম।
আরো পড়ুনঃ গাজরের ৮ টি বিস্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা
সকল কিছুর যেমন উপকারিতা আছে আবার তেমন কিছু অপকারিতাও থাকে। প্রাকৃতিক যে কোনো জিনিস ব্যাবহার করার আগে তার সকল দিক সম্পর্কে জেনে ব্যাবহার করা উত্তম। অর্জুন ছাল বা এর যে কোনো অংশ ব্যাবহার করার আগে সব জেনে নিন। অতিরিক্ত এই জিনিস সেবন বা ব্যাবহার করলে রক্তচাপ অনেক কমতে পারে। যা আপনার দেহের জন্য ক্ষতি হতে পারে।
অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার নিয়ম
আমাদের দেহের নানা সমস্যার সমাধানে অর্জুন এর ছাল অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই অর্জুন ছাল খাওয়ার তেমন কোনো নিয়ম নেই। তবে আপনি যদি কাঙ্কখিত ফলাফল পেতে চান তাহলে অর্জুনের ছাল ভিজিয়ে খেতে পারেন। অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খেলে এর উপকারিতা অনেক বেশি পাওয়া যায়। অর্জুন ছাল আমাদের দেহের অনেক পুষ্টি ঘাড়তি পুরন করে থাকে। তাহলে চলুন অর্জুন ছাল ভিজিয়ে খাওয়ার উপকারিতা এবং নিয়ম সম্পর্কে জেনেনি।
প্রথমত আপনি অর্জুন ছাল শুকিয়ে গুড়ো করে নিন। তার পর খাওয়ার সময় ১ চা-চামচ অর্জুন ছালের গুড়ো নিন তার সাথে ১ চা-চামচ মধু এবং এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খাবেন। আর যদি প্রতিদিন সকালে নিয়মিত খেতে পারেন তাহলে অনেক ভালো ফলাফল পাবেন। আবার আপনি চাইলে এক গ্লাস গরম পানিতে ১ চা-চামচ অর্জুন ছালের গুঁড়া নিয়ে মিশিয়ে খেয়ে নিতে পারেন।
তবে আপনার এটা মনে রাখতে হবে যেন অতিরিক্ত খাওয়া না হয়ে যায়। কারন এটা আবার অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে আপনার দেহের ক্ষতি হতে পারে। আপনি যদি হৃদরোগ এর ঔষধ সেবন করে থাকেন তাহলে আপনার অর্জুন ছাল না খাওয়ায় ভালো। আবার মহিলারা গর্ভাবস্থায় অর্জুন ছাল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
অর্জুন ফলের বিস্ময়কর উপকারিতা
অর্জুন ফলের উপকারিতা বলতে গেলে শেষ হবে না। অর্জুন ছালের যেমন অনেক অনেক উপকার আছে তেমন অর্জুন ফলেরও অনেক পুষ্টি গুন আছে এবং উপকার আছে। এই ফলের উপকার সঠিক ভাবে জানি না বলে আমরা এটির সঠিক ব্যাবহার করতে পারি না। অর্জুন ফলের হাজারো উপকারি গুন আছে আসুন দেখে নিন।
- রক্ত চলাচল উন্নত হবে এবং হৃদযন্ত্র শক্তিশালী হবে।
- এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও ফ্লাভনেড থাকায় যা আপনার রক্ত নালিকে প্রসস্থ করে দেয়।
- গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধান করে এবং হজম শক্তি উন্নত করে।
- এটি আপনার হার্ড এটাক এর ঝুকি কমায় এবং রক্তনালী পরিষ্কার করে।
- এতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ উপাদান যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।
- আপনার রক্ত স্বল্পতা দূর করে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে ভূমিকা পালন করে।
- অর্জুন ফল ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের দাগ কমায়
- এটি শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ বের করে এবং লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়।
অর্জুন এর পুষ্টিগুণ
অর্জুনের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে জানলে আপনার অনেক উপকার হবে। অর্জুনের পুষ্টি উপাদান সম্পর্কে এখন আমরা অনেক কিছু তথ্য জানতে পারবো। অর্জুনের পাতা এবং ফলের মধ্যের পুষ্টি উপাদানের মধ্যে তেমন কোনো তারতম্য দেখা যায় না। অর্জুনের গাছের ছাল বাকল বা পাতা ফল সব কিছুতেই হাজারো পুষ্টি উপাদান আছে। চলুন এক নজরে দেখে আসি অর্জুনের পুষ্টি উপাদান। প্রতি ১০০ গ্রাম অর্জুনের পুষ্টি উপাদান দেখুন।
- প্রোটিন ২.৫-৩.৫ গ্রাম
- ফ্যাট ১-১.৫ গ্রাম
- কারবহাইড্রেট ৩৫-৪০ গ্রাম
- ডায়েটারি ফাইবার ২০-২৫ গ্রাম
- ক্যালসিয়াম ২০০-২৫০ মিলিগ্রাম
- ফসফরাস ৯০-১২০ মিলিগ্রাম
- ম্যাগনেসিয়াম ১৫০-২০০ মিলিগ্রাম
- সোডিয়াম ২০-৩০ মিলিগ্রাম
- পটাশিয়াম ৩০০-৩৫০ মিলিগ্রাম
- আয়রন ৫-৮ মিলিগ্রাম
- ট্যানিন ২০-২৫ গ্রাম
- জিংক ১-২ মিলিগ্রাম
- ফ্লাভনয়েডস ৫-১০ গ্রাম
- স্যাপোনিন ২-৫ গ্রাম
- গ্লাইকোসাইট ২-৪ গ্রাম
এই সব হাজারো পুষ্টি উপাদান থাকে অর্জুনে। আপনি যদি নিয়মিত অর্জুন এর ছাল বা ফল খেতে পারেন আপনার নানা সমস্যার সমাধান পাবেন। তাই প্রতিদিন নিয়মিত পরিমান মত অর্জুন খাওয়ার চেষ্টা করবেন। আশা করি উপকার পাবেন।
হাঁপানি রোগে অর্জুন ফল
অর্জুন ফল আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তার সাথে নানা রোগের সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। যেমন হাঁপানি রোগের সেরা ঔষধ হতে পারে এই অর্জুন। আপনার যদি হাঁপানি সমস্যা থাকে তাহলে এক টুকরো অর্জুনের ছাল নিয়ে তামাকের মত করে ধোঁয়া টানলে আপনার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আবার আপনার যদি অতিরিক্ত আমাশয়ের সমস্যা থাকে তাহলে প্রতিদিন অর্জুনের পাতার রস করে খাবেন। আশা করা যায় আপনার আমাশয়ের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
আরো পড়ুনঃ গর্ভাবস্থায় ড্রাগন ফলের ১০ টি
আবার যাদের পস্রাবের সাথে পুঁজ বা Puscell বেশি পরিমানে বের হয় তারা প্রতিদিন অর্জুন ছালের গুঁড়া গরম পানির সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। ১ চা-চামচ অর্জুন ছালের গুঁড়া এবং এ গ্লাস পরিমানে গরম পানি নিয়ে তার সাথে এক টুকরো বার্লি মিশিয়ে খাবেন। আশা করি আপনার এই সমস্যার সমাধান পাবেন। অর্জুন ছাল একটু তিতকুত হয়ে থাকে যা আপনার শরীরের ঘা পাঁচড়া হলে লাগাবেন তাহলে ভালো হয়ে যাবে।
দাঁতের সমস্যা সমাধানে অর্জুন
অর্জুন ছালের বিস্ময়কর কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা এর মধ্যে দাঁতের সমস্যা সমাধেন এর উপকারিতা অনেক। যেমন দাঁত দিয়ে রক্ত পড়া, দাঁত নড়া, গরম পানি বা ঠাণ্ডা পানি মুখে দিলে দাঁত শিরশির করা, মুখের দুরগন্ধ, দাঁতের গোঁড়া ফুলে যাওয়া সহ আরো নানান সমস্যার সমাধান করে থাকে। দন্তরোগের কার্যকারী ঔষধ হিসাবে কাজ করে এটা।
এই সমস্যার জন্যে খাওয়ার নিয়ম অর্জুন ছাল, অর্জুন ফল, নারিকেল গাছের শিকড় সব গুলো একসাথে জাল করে গাদ বানিয়ে নিতে হবে। এরপর এর সাথে একটু কর্পূর মিশিয়ে দিনে দুই বার গড়গড়া করলে আশা করা যায় দাঁতের যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। অর্জুন এর উপকারিতার কথা বলতে গেলে শেষ হয় না। দাঁতের সমস্যার জন্য নিয়মিত এই ভাবে ব্যাবহার করুন।
অর্জুন ছালের অপকারিতা
এই পৃথিবীতে সকল জিনিসেরেই যেমন উপকারিতা থাকে তেমন সামান্য কিছু অপকারিতাও থাকে। তেমন অর্জুন এর যেমন অনেক উপকারিতা আছে তেমন কিছু অপকারিতাও আছে। তাই কোন কিছু ব্যাবহারের আগে ভালো করে যেনে নিয়ে ব্যাবহার করাই ভালো। আর একটা জিনিসের উপকারিতা আছে বলেই যে সেটা অতিরিক্ত খাবেন বা ব্যাবহার করবেন সেটা করা যাবে। মাত্রা অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না। তাহলে চলুন দেখি অর্জুনের ছালের কিছু অপকারিতা।
- অতিরিক্ত অর্জুন ব্যাবহার করার ফলে আপনার কিডনির উপর চাপ ফেলতে পারে তাই সাবধানতা অবলম্বন করুন।
- অর্জুন আবার কারো কারো ত্বকের সমস্যা সৃষ্টি করে। আপনার যদি অ্যালার্জি থাকে তাহলে অর্জুন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- অর্জুন ছাল রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে তাই যাদের এই জাতিয় সমস্যা আছে তারা অর্জুন ছাল ব্যাবহার করবেন না।
- আবার কিছু ঔষধ সেবন কালে অর্জুন খেলে সেই ঔষধ এর কার্যকারিতা কমিয়ে বা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ঔষধ সেবন কালে ব্যাবহার না করাই ভালো।
- গর্ভাবস্থায় অর্জুন খাওয়া থেকে বিরত থাকে হবে মহিলাদের। কারন অর্জুন জরায়ু সংকোচন হতে পারে।
ত্বকের যত্নে অর্জুন ছাল
ত্বকের যত্নে অর্জুনের ছালের জুড়ি মেলা ভার। আপনার মুখে যদি ব্রন এর সমস্যা হয় তাহলে অর্জুনের ছালের চূর্ণ মধুর সাথে মিশিয়ে ব্রনের উপর লাগালে খুবি দ্রুত আপনার ব্রন দূর হয়ে যাবে। আবার মুখে যদি মেচতা থাকে তাহলে মেচতাও ভালো হয়ে যাবে। আপনার মুখের উজ্জলতা বাড়ানোর জন্য অর্জুনের ছাল এর ব্যাবহার করতে পারবেন।
.webp)
আজকে আপনাদের এর গুনাগুণ সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করলাম। অর্জুন ছাল বা ফল খেলে ত্বকের যে কোনো সমস্যা ভালো হয়ে যাবে। ত্বকের জন্য অর্জুন অনেক উপকারি একটি গাছ। যার পাতা থেকে শুরু করে ছাল পর্যন্ত উপকারে ভরপুর।
শেষ কথাঃ অর্জুন ছালের বিস্ময়কর কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা
আজকে এই আর্টিকেলে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম অর্জুন ছালের বিস্ময়কর কিছু উপকারিতা ও অপকারিতা। যা জানা আপনার জন্য অনেক দরকারি। এই আর্টিকেলে অর্জুনের ছাল, পাতা, ফল সকলের উপকার পুষ্টিগু খাওয়ার নিয়ম সকল বিষয় ভালো ভাবে তুলে ধরেছি। আপনি যদি এই আর্টিকেলটি পড়ে উপকৃত হন তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।
স্বপ্ন বাংলার নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url